সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের সূত্র

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা বলতে ত্রিভুজটির তিনটি বাহুর মোট দৈর্ঘ্যের যোগফলকে বোঝায়।

টিউটোরিয়ালটি শেষে আপনি যা শিখবেন:
সমকোণী ত্রিভুজের—

এই পেজে আমরা শুধু সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের সূত্র, তার গাণিতিক প্রকাশ এবং ব্যবহারিক উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করব।

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা বলতে কী বোঝায়?

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা বলতে সমকোণী ত্রিভুজের বাহু তিনটির সমষ্টিকে বুঝায়। সমকোণী ত্রিভুজের বাহু তিনটি হলো লম্ব, ভূমি ও অতিভুজ। কাজেই এই বাহগুলোর যোগফলই হলো সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা।

অতএব,সমকোণী ত্রিভুজের তিনটির বাহুর দৈর্ঘ্যের যোগফলই হলো পরিসীমা।

আরও সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, কোনো সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব, ভূমি ও অতিভূজের দৈর্ঘ্যের সমষ্টিকে পরিসীমা বলে।

👉 সমকোণী ত্রিভুজের মৌলিক ধারণা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে দেখুন—
সমকোণী ত্রিভুজ


পরিসীমারি নির্ণয়ের সূত্র

যে সূত্র ব্যবহার করে সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা বের করা হয়, সেটিই সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের সূত্র বলে পরিচিত।

ধরা যাক, একটি সমকোণী ত্রিভুজের—

তাহলে, সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা হবে—

পরিসীমা = (লম্ব + ভূমি + অতিভূজ) একক।
অর্থাৎ,

P = a + b + c

এখানে P দ্বারা ত্রিভুজের পরিসীমা নির্দেশ করা হয়েছে।

পরিসীমার একক হলো সেন্টিমিটার, মিটার, কিলোমিটার, ফূট ইত্যাদি।


চিত্রের সাহায্যে সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা ব্যাখ্যা

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের চিত্র, যেখানে লম্ব, ভূমি ও অতিভূজ দেখিয়ে পরিসীমা = লম্ব + ভূমি + অতিভূজ সূত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে
চিত্র: চিত্রে সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব, ভূমি ও অতিভূজ চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে যে সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয় করা হয়— লম্ব + ভূমি + অতিভূজ যোগ করে।

এই চিত্রটিতে একাধিক সমকোণী ত্রিভুজ দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ত্রিভুজের সমকোণ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত। ত্রিভুজের তিনটি বাহু— লম্ব, ভূমি ও অতিভূজ আলাদা করে লেবেল করা আছে, যাতে শিক্ষার্থী সহজেই বুঝতে পারে কোন বাহুটি কোনটি।

চিত্রের উপরের অংশে লেখা আছে যে সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা = লম্ব + ভূমি + অতিভূজ।

এই ভিজুয়ালটি দেখে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে পরিসীমার সূত্র বুঝতে পারে এবং গাণিতিক সমস্যার সমাধানে এটি প্রয়োগ করতে পারে।


অতিভুজের মান জানা না থাকলে পরিসীমা কীভাবে নির্ণয় করব?

অনেক সময় সমকোণী ত্রিভুজের কেবল ভূমি ও লম্বের মান দেওয়া থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে অতিভুজের মান নির্ণয় করতে হয়।

পিথাগোরাসের সূত্র অনুযায়ী—

c2 = a2 + b2

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের উদাহরণ

ধরা যাক, একটি সমকোণী ত্রিভুজের—

অতিভুজের মান হবে—

c = 62 + 82

c = 36 + 64

c = 100

c = 10

তাহলে, সমকোণী ত্রিভুজটির অতিভুজ 𝒄 = 10 সেমি।

এখন পরিসীমা—

P = a + b + c

P = 6 + 8 + 10

P = = 24

সুতরাং, পরিসীমা 10 সেমি।

সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমার সূত্র

যে ত্রিভুজ একইসাথে সমদ্বিবাহু ও সমকোণী, তাই সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ।

আবার যেহেতু ত্রিভুটি সমদ্বিবাহু, তাই এর দুইটি বাহু পরস্পর সমান। তাহলে অতিভুজ ব্যতীত এর অপর দুইটি বাহু হলো ভূমি ও লম্ব। কাজেই, সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি ও লম্ব পরস্পর সমান।

∴ ভূমির দৈর্ঘ্য = লম্বের দৈর্ঘ্য

চিত্রের সাহায্যে সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমা বোঝা

৪৫°–৪৫°–৯০° কোণের সমদ্বিবাহু সমকোণী ত্রিভুজের চিত্র, যেখানে একটি কোণ ৯০° এবং বাকি দুটি কোণ সমান ৪৫° দেখানো হয়েছে
চিত্র: চিত্রে একটি সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ দেখানো হয়েছে, যেখানে একটি কোণ ৯০° এবং অপর দুটি কোণ ৪৫° করে সমান— যা 45°–45°–90° ত্রিভুজের গঠন স্পষ্ট করে।

এই চিত্রটিতে একটি সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ দেখানো হয়েছে। ত্রিভুজটির একটি কোণ স্পষ্টভাবে ৯০° হিসেবে চিহ্নিত এবং বাকি দুটি কোণ ৪৫° করে সমান, যা লাল রঙে প্রদর্শিত।

এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় যে, যখন কোনো সমকোণী ত্রিভুজের দুটি সূক্ষ্মকোণ সমান হয়, তখন সেটি সমদ্বিবাহু সমকোণী ত্রিভুজ হয়।

এই ধরনের চিত্র শিক্ষার্থীদের জন্য কোণভিত্তিক বৈশিষ্ট্য বোঝা, প্রশ্নের যুক্তি তৈরি এবং জ্যামিতিক ধারণা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।

তাই, সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমা = (লম্ব + ভূমি + অতিভুজ) একক।
বা, পরিসীমা = (লম্ব + লম্ব + অতিভুজ) একক।
বা, পরিসীমা = (২ ⨯ লম্ব + অতিভুজ) একক।

অথবা, পরিসীমা = (২ ⨯ ভূমি + অতিভুজ) একক।

সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের সমকোণ সংলগ্ন সমান বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য 𝒂 একক এবং অতিভুজের দৈর্ঘ্য 𝒃 একক হলে
সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমার সূত্র = (2𝒂 + 𝒃) একক।

সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমার সূত্র = (২ ⨯ লম্ব + অতিভুজ) একক।

অথবা, সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের সূত্র = (২ ⨯ ভূমি + অতিভুজ) একক।

সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের সমকোণ সংলগ্ন ভূমি বা লম্বের দৈর্ঘ্য 𝒂 একক এবং অতিভুজের দৈর্ঘ্য 𝒃 একক হলে—,
পরিসীমা = (2𝒂 + 𝒃) একক।

গুরুত্বপূর্ণ নোট


প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা নির্ণয়ের সাধারণ সূত্র কোনটি?
প্রশ্ন ২: একটি সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব = ৩ সেমি, ভূমি = ৪ সেমি হলে পরিসীমা কত?
প্রশ্ন ৩: লম্ব ৩ সেমি ও ভূমি ৪ সেমি হলে অতিভূজের দৈর্ঘ্য কত?
প্রশ্ন ৪: একটি সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলো ৫ সেমি, ১২ সেমি ও ১৩ সেমি হলে পরিসীমা কত?
প্রশ্ন ৫: লম্ব ৮ সেমি ও ভূমি ১৫ সেমি হলে অতিভূজের দৈর্ঘ্য কত?
প্রশ্ন ৬: একটি সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব = ৮ সেমি, ভূমি = ১৫ সেমি হলে পরিসীমা কত?
প্রশ্ন ৭: অতিভূজ ২৫ সেমি এবং একটি বাহু ২৪ সেমি হলে অন্য বাহুর দৈর্ঘ্য কত?
প্রশ্ন ৮: একটি সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলো ৭ সেমি, ২৪ সেমি ও ২৫ সেমি হলে পরিসীমা কত?
প্রশ্ন ৯: লম্ব ও ভূমির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৫ সেমি ও ১২ সেমি হলে পরিসীমা কত?
প্রশ্ন ১০: একটি সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলো ৬ সেমি, ৮ সেমি ও ১০ সেমি হলে সঠিক উত্তর কোনটি?

FAQ: সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমা কী?

সমকোণী ত্রিভুজের তিনটি বাহুর যোগফলকে এর পরিসীমা বলে।

পরিসীমা নির্ণয়ে পিথাগোরাসের উপপাদ্য কেন দরকার হয়?

কারণ অনেক সময় অতিভূজের মান দেওয়া থাকে না, তখন পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে তা নির্ণয় করা হয়।

সমকোণী ত্রিভুজের পরিসীমার একক কী?

পরিসীমার একক সর্বদা দৈর্ঘ্যের একক, যেমন সেমি, মিটার ইত্যাদি।

পরিসীমা ও ক্ষেত্রফলের মধ্যে পার্থক্য কী?

পরিসীমা হলো বাহুগুলোর মোট দৈর্ঘ্য, আর ক্ষেত্রফল হলো ত্রিভুজের অভ্যন্তরীণ স্থান।

এই কনটেন্ট
  • প্রথম প্রকাশকাল:
  • সর্বশেষ সম্পাদনা ও পরিমার্জন:
কনটেন্ট লেখক: মোঃ মুনজিল হোসেন
কনটেন্ট লেখক ও ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা
মোঃ মুনজিল হোসেন
পেজটি শেয়ার করুন
❮ Previous Next ❯